এফএওর প্রতিবেদন

জুনে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে

বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম গত মাসে কিছুটা বেড়েছে। এ সময় মাংস, উদ্ভিজ্জ তেল ও দুগ্ধজাত পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি খাদ্যপণ্যের মোট দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম গত মাসে কিছুটা বেড়েছে। এ সময় মাংস, উদ্ভিজ্জ তেল ও দুগ্ধজাত পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি খাদ্যপণ্যের মোট দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। গতকাল প্রকাশিত মাসভিত্তিক মূল্যসূচক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিভাগ (এফএও)। খবর রয়টার্স ও মার্কেট স্ক্রিনার।

এফএওর মূল্যসূচক মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হওয়া খাদ্যপণ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক ছিল ১২৮ পয়েন্ট। এটি মে মাসের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ ও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। তবে জুনের বৈশ্বিক খাদ্যপণ্য মূল্যসূচক ২০২২ সালের মার্চের তুলনায় এখনো ২০ দশমিক ১ শতাংশ কম। সে সময় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছিল।

সম্প্রতি ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি খাতের জন্য সহায়ক নীতি ঘোষণার পর থেকে বায়োফুয়েল খাতে বাড়ছে সয়াবিনের চাহিদা, যার প্রভাব পড়েছে দামে। এছাড়া জুনে পাম অয়েলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে শক্তিশালী আমদানি চাহিদা। অন্যদিকে গত মাসে সরিষা তেলের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে গত মাসে এফএওর ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক মে মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১৫৫ দশমিক ৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা গত বছরের জুনের তুলনায় ১৮ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

জাতিসংঘের সংস্থাটির দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক গত মাসে মে মাসের তুলনায় বেড়েছে দশমিক ৫ শতাংশ। এ সময় পণ্যটির মূল্যসূচক পৌঁছেছে ১৫৪ দশমিক ৪ পয়েন্টে। দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক বার্ষিক ভিত্তিতে ২০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।

তবে জুনে এফএওর কিছু পণ্যের মূল্যসূচক কমে এসেছে। এর মধ্যে খাদ্যশস্য মূল্যসূচক ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১০৭ দশমিক ৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এটি এক বছর আগের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ কম। জুনে বিশ্বব্যাপী ভুট্টার দাম টানা দ্বিতীয় মাসের মতো কমেছে। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে সরবরাহ বৃদ্ধি ও বেশি রফতানি প্রতিযোগিতা খাদ্যশস্যটির দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এ সময় যব ও সরগমের দামও কমেছে। যদিও গত মাসে রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগের কারণে গমের দাম বেশি ছিল।

ব্রাজিল, ভারত ও থাইল্যান্ড থেকে সম্প্রতি সরবরাহ বেড়েছে চিনির। এ কারণে পণ্যটির মূল্যসূচক মে মাসের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১০৩ দশমিক ৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা এপ্রিল ২০২১-এর পর সর্বনিম্ন।

এদিকে এক পৃথক প্রতিবেদনে এফএও জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক শস্য উৎপাদন রেকর্ড ২৯২ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এটি আগের দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় দশমিক ৫ এবং গত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

তবে উত্তর গোলার্ধের কিছু অঞ্চলে উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও আছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আরও